অনলাইন ডেস্কঃ পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়ায় মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সভাপতি ও ভাঙ্গুড়া পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মুতালেব হোসেন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। এই চাঁদা দাবির প্রতিবাদে ভাঙ্গুড়া উপজেলা শিল্প ও বাণিক সমিতির ব্যানারে মানববন্ধান ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এতে ভাঙ্গুড়ার শতাধিক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।
ভাঙ্গুড়া শিল্প ও বনিক সমিতির সহ সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৫ আগস্টের তারিখের পর ভাঙ্গুড়ায় ব্যবসায়ী সমাজকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘৃণ্য ঘটনা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে ভাঙ্গুড়া বাজারের বকুলতলায় অবস্থিত বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এ.কে.এম. হানিফ (বাবলু)র নিজস্ব অফিসে পাবনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের ভাঙ্গুড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মোতালেব হোসেন গং প্রকাশ্যে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তিনি বাবলু সাহেবের নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে জীবন নাশের হুমকি প্রদান করেন।
এটি একটি স্পষ্ট চাঁদাবাজি, এটি একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, এটি ব্যবসায়ী সমাজের নিরাপত্তার উপর নগ্ন আঘাত বলেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী সমাজ চাঁদাবাজদের কাছে মাথা নত করবে না-রক্ত দিয়ে হলেও প্রতিরোধ করবে। কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় হলেও তা প্রতিহত করা হবে বলে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ীরা।
এ সময় তারা চার দফা দাবী তুলে ধরেন, দাবী গুলি হলো ‘অবিলম্বে মোতালেব হোসেন গং-কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শান্তি প্রদান করতে হবে। ব্যবসায়ী এ.কে.এম. হানিফ (বাবলু) সাহেবের লিখিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজনৈতিক দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে মোতালেব হোসেনকে সমস্ত পদ পদবী থেকে বহিষ্কার করতে হবে। ব্যবসায়ী সমাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভাঙ্গুড়া বাজারে স্থায়ীভাবে বিশেষ পুলিশ টহল জোরদার করতে হবে।’ তারা আরও বলেন, ‘প্রশাসনকে স্পষ্ট ভাষায় জানাচ্ছি- ব্যবসায়ী সমাজকে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভাঙ্গুড়া শিল্প ও বনিক সমিতি অবস্থান কর্মসূচি, বাজার বন্ধসহ কঠোর আন্দোলনে নামবে। এর সমস্ত দায়ভার প্রশাসনের ওপর বর্তাবে।’
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন,ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি হাফিজ উদ্দীন বাহার, সদস্য আশরাফ আলী ও একতা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী কেএম হানিফ বাবলু, উপজেলা বিএনপি-র যুগ্ম আহব্বায়ক আনিছুর রহমান লিটন, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি হুমায়ন কবির, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহব্বায়ক আশরাফ আলীসহ প্রমুখ।
এর পর ব্যবসায়ী বৃন্দ ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করো, ব্যবসায়ী সমাজকে বাঁচাও।’ ‘ব্যবসায়ীদের রক্তের ঘামে গড়া টাকা সন্ত্রাসীদের হাতে যাবে না।’ ‘ব্যবসায়ীদের প্রাণের নিরাপত্তা চাই, নয়তো বাজার অচল হবে।’ সম্বলিত প্লেকার্ড বহন করে একটি বিক্ষেভ মিছিল বকুলতলা থেকে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড হয়ে ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ একটি লিখিত স্বারকলিপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভাঙ্গুড়া, পাবনার নিকট প্রদান করেন।
ভাঙ্গুড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভাঙ্গুড়ায় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা সাধারণ ডায়েরী (জিডি) বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ সর্বদা নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে।”


