Google search engine
Homeইসলামজুমার রাতের ফজিলত, তাৎপর্য ও আমল

জুমার রাতের ফজিলত, তাৎপর্য ও আমল

ভুমিকা : ইসলামে সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। আর জুমার দিনের আগের রাতকে বলা হয় জুমার রাত। ইসলামী পরিভাষায় বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার ফজরের আগ পর্যন্ত সময়কে জুমার রাত বলা হয়। এ রাত ও জুমার দিন মুমিনের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, ইবাদত-বন্দেগি বৃদ্ধি এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি দরুদ পাঠের বিশেষ সুযোগ। তাই একজন মুমিনের উচিত এ রাতকে অবহেলায় না কাটিয়ে সাধ্যানুযায়ী নেক আমলে অতিবাহিত করা।

জুমার দিনের মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ ﷺ জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা বর্ণনা করে বলেছেন, “সূর্য উদিত হওয়ার দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন।” এ দিনে আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করা হয়েছে। কিয়ামতও জুমার দিনেই সংঘটিত হবে। (সহিহ মুসলিম)

জুমার রাত মূলত জুমার দিনের সূচনালগ্ন। তাই এ রাতকে কেন্দ্র করে মুমিনের অন্তরে আল্লাহর স্মরণ ও পরবর্তী দিনের ইবাদতের প্রস্তুতি থাকা উচিত।

জুমার রাতে দরুদ পাঠ

জুমার রাত ও দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলোর একটি হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। সুতরাং তোমরা এ দিনে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।” সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের দরুদ আপনার কাছে কীভাবে পেশ করা হবে? তিনি ﷺ বললেন, আল্লাহ তাআলা নবীদের দেহ ভক্ষণ করা মাটির জন্য হারাম করেছেন। (সুনান আবু দাউদ)

অতএব, জুমার রাত থেকেই দরুদ পাঠের অভ্যাস করা অত্যন্ত উত্তম। নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা ফরজ বা ওয়াজিব মনে না করে যত বেশি সম্ভব দরুদ শরিফ পাঠ করা উচিত।

সূরা কাহফ পাঠ

জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করার ব্যাপারে হাদিসে বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূর দ্বারা আলোকিত হবে। (বায়হাকি)

এ কারণে বৃহস্পতিবার সূর্যাস্তের পর থেকে শুক্রবার সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত সূরা কাহফ পাঠ করা যায়। জুমার রাতে সুযোগ হলে সূরাটি পাঠ করা ভালো। তবে এটিকে এমনভাবে নির্দিষ্ট করা উচিত নয় যে শুধু রাতেই পড়তে হবে।

দোয়া ও ইস্তিগফার

জুমার দিন এমন একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা আল্লাহর কাছে দোয়া করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন—এ মর্মে সহিহ হাদিস রয়েছে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

তাই জুমার রাত থেকেই আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া, দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ কামনা করা এবং পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও সমগ্র উম্মাহর জন্য দোয়া করা উচিত। বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পাঠ করাও উত্তম আমল।

তাওবা ও আত্মশুদ্ধি

জুমার রাতকে শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতের সময় মনে না করে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। মানুষ সারা সপ্তাহে নানা ভুল-ত্রুটি ও গুনাহে জড়িয়ে পড়ে। জুমার রাত হতে পারে নিজের আমল পর্যালোচনার একটি সুন্দর সময়। কোন গুনাহ করেছি, কারও হক নষ্ট করেছি কি না, নামাজে অবহেলা করেছি কি না—এসব চিন্তা করে আন্তরিকভাবে তাওবা করা উচিত।

আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তাওবা করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।” (সূরা আন-নূর: ৩১)

কুরআন তিলাওয়াত ও নফল ইবাদত

জুমার রাতে কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, তাসবিহ, তাহলিল এবং নফল নামাজ আদায় করা অত্যন্ত উত্তম সাধারণ নেক আমল। তবে জুমার রাতের জন্য এমন কোনো নির্দিষ্ট নফল নামাজ বা নির্দিষ্ট রাকাতকে সুন্নত হিসেবে প্রচার করা ঠিক নয়, যার নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। বরং সাধারণ নফল ইবাদত করা এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদতে সময় দেওয়া উচিত।

পরিবারকে আমলের পরিবেশ দেওয়া

জুমার রাত পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্বীনি পরিবেশ তৈরিরও একটি সুযোগ। সন্তানদের সঙ্গে কুরআন-হাদিসের আলোচনা, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনী পাঠ, দরুদ পাঠ এবং ইসলামী শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। এতে পরিবারের মধ্যে ঈমানি পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং শিশুদের মধ্যে দ্বীনের প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয়।

উপসংহার

জুমার রাত একজন মুমিনের জন্য আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর স্মরণ ও জুমার দিনের প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, ইস্তিগফার, তাওবা ও দোয়া করা উচিত। একই সঙ্গে জুমার দিনের ফরজ নামাজ, খুতবা শ্রবণ ও অন্যান্য সুন্নত আমলের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা দরকার। মনে রাখতে হবে, ইবাদতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইখলাস, সুন্নাহর অনুসরণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা। তাই জুমার রাতকে গাফেলতিতে না কাটিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করাই একজন মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

আরো সংবাদ

কমেন্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ