নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। নির্বাচন কমিশন পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি বেতন, সরকারি বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এসব সুবিধা রাষ্ট্রপতির পদে থাকা ব্যক্তির জন্য আইন দ্বারা নির্ধারিত।
মাসিক বেতন
প্রচলিত দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) আইন অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এই বেতন আয়করমুক্ত।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতির জন্য নির্ধারিত ছুটিভাতাও রয়েছে। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছুটিভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। এটিও আয়করমুক্ত।
বঙ্গভবনে সরকারি বাসভবন
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য বঙ্গভবন ব্যবহার করবেন।
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের সাজসজ্জা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যয় সরকার বহন করে। এমনকি রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন বা ইচ্ছা অনুযায়ী অন্য কোনো সরকারি বা ব্যক্তিগত বাসভবনে অবস্থান করলেও আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আবাসন ব্যয়ের ব্যবস্থাও রাষ্ট্রীয়ভাবে করা যেতে পারে।
খাবারের খরচ
রাষ্ট্রপতি ও আইনে নির্ধারিত তাঁর পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার বিধান রয়েছে। পরিবারের সদস্য হিসেবে নির্ভরশীল স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান, পিতা-মাতা এবং অবিবাহিত ভাই-বোনকে আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যয়ও সরকারি ব্যবস্থায় হয়ে থাকে।
বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও টেলিফোন
রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবনের বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সেবা খাতের ব্যয় সরকার বহন করে। এসব সুবিধা রাষ্ট্রপতির সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়।
সরকারি গাড়ি ও যাতায়াত
রাষ্ট্রপতির জন্য প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা সরকার করে থাকে। সরকারি দায়িত্ব পালনে ব্যবহৃত যানবাহনের জ্বালানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করা হয়।
দেশের ভেতরে রাষ্ট্রীয় সফর এবং সরকারি কাজে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা রাষ্ট্রপতি পেয়ে থাকেন।
দেশ-বিদেশে ভ্রমণ সুবিধা
রাষ্ট্রীয় ও সরকারি কাজে দেশের বাইরে সফর করলে রাষ্ট্রপতি নির্ধারিত ভ্রমণ ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। রেল, বিমান ও নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও রাষ্ট্রপতির জন্য সর্বোচ্চ সুবিধার আসনের বিধান রয়েছে।
বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির জন্য বার্ষিক ২৭ লাখ টাকা বিমা কাভারেজ দেওয়ার বিধানও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিকিৎসা সুবিধা
রাষ্ট্রপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যয়ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার বিধান রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য বিশেষ সরকারি সুবিধা থাকে।
আপ্যায়ন ভাতা
রাষ্ট্রপতির রাষ্ট্রীয় আপ্যায়ন বা এন্টারটেইনমেন্টের জন্য বার্ষিক ভাতা রয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের নিরীক্ষা না করার বিধানও রয়েছে।
স্বেচ্ছাধীন তহবিল
রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিলও রয়েছে। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, এ তহবিলের পরিমাণ বছরে ২ কোটি টাকা। রাষ্ট্রপতি বিভিন্ন মানবিক, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে এই তহবিল ব্যবহার করতে পারেন।
অবসরের পরও রয়েছে কিছু সুবিধা
রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসর নেওয়ার পরও আইনে নির্ধারিত কিছু সুবিধা পাওয়ার বিধান রয়েছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অবসর ভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। তিনি অবসর ভাতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট নিয়মে এককালীন আনুতোষিক গ্রহণের সুযোগও পেতে পারেন। রাষ্ট্রপতি মারা গেলে তাঁর বিধবা স্ত্রী বা ক্ষেত্রবিশেষে বিপত্নীক স্বামী নির্ধারিত হারে মাসিক ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
শুধু ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ
রাষ্ট্রপতির এসব সুবিধাকে ব্যক্তিগত সুযোগ হিসেবে দেখার চেয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনের জন্য নির্ধারিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। নিরাপত্তা, সরকারি বাসভবন, যানবাহন, চিকিৎসা ও ভ্রমণসহ অধিকাংশ সুবিধাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। তাঁর সামনে এখন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও রয়েছে।
উল্লেখ্য: রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সময়ের সঙ্গে আইন সংশোধনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। ওপরের তথ্যগুলো বর্তমানে প্রচলিত আইন ও প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।


