পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে ১০ বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন নাহার কলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোস্তফা প্রামাণিক (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) পাবনা সদর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ জানায়, নিহত শিশু কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার এক ভাড়াটিয়াকে বুধবার আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর মোস্তফা প্রামাণিককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অপর ব্যক্তিকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মোস্তফা প্রামাণিককে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে হত্যার পেছনে কী কারণ বা কীভাবে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনই জানানো সম্ভব নয়।
এদিকে নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। প্রথমে নিখোঁজের ঘটনায় করা মামলাটি পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নিখোঁজের সাত দিন পর মরদেহ উদ্ধার
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে কলির বাড়ির পাশের একটি ডোবা/পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তাধীন
শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ধর্ষণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না; তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কলি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে।


