পাবনা প্রতিনিধি | Our Pabna24 : পাবনার ঈশ্বরদীতে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ব্যবসায়ীর বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গরু লুটসহ প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। বসতভিটা হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে পরিবার দুটি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের বাঘইল কাঁঠালতলা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাতে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে ন্যায়বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ
ভুক্তভোগী দুই ব্যবসায়ী হলেন জামিরুল ইসলাম শান্ত ও তাঁর ভাই শিহাব উদ্দিন। তাঁদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে তাঁদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।
জামিরুল ইসলাম শান্তর দাবি, আদালতের কোনো আদেশ ছাড়াই তাঁদের বাড়িতে এ হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় বাড়ির মালামাল ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও গরু নিয়ে যাওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যাঁদের নাম উল্লেখ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে একই এলাকার খোকন হোসেন, রবি হোসেন, মতিয়ার রহমান, আবুল খায়ের ও সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার পর পরিবার দুটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বসতভিটা হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জমি নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি অভিযুক্তের
অভিযোগ অস্বীকার করে খোকন হোসেন দাবি করেছেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অতীতে তাঁদের পূর্বপুরুষদের ভিটা দখল করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও প্রতিপক্ষ তা মানেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ফলে জমিটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে। জমির প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র ও আদালতের নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ।
একজন গ্রেপ্তার, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা পুলিশের
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান অভিযুক্ত খোকন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তার ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা ও উচ্ছেদের এ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ, ২৮ অক্টোবর ২০২৬; ঈশ্বরদী থানা পুলিশের বক্তব্য ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি পুনর্লিখিত।


