Google search engine
Homeইসলামইসলামের দৃষ্টিতে ফুটবল বিশ্বকাপ : মুফতী মুক্তাদির হোসাইন মারুফ

ইসলামের দৃষ্টিতে ফুটবল বিশ্বকাপ : মুফতী মুক্তাদির হোসাইন মারুফ

১) খেলাধুলা ইসলামে বৈধ, তবে সীমার মধ্যে

  • ইসলাম শরীরকে সুস্থ ও শক্তিশালী রাখার শিক্ষা দেয়।
  • রাসূল ﷺ দৌড় প্রতিযোগিতা, ঘোড়দৌড় ও তীরন্দাজির উৎসাহ দিয়েছেন।
  • তবে যে খেলাধুলা ফরজ-ওয়াজিব নষ্ট করে বা গুনাহে লিপ্ত করে, তা বৈধ নয়।
  • হাদিস: “শক্তিশালী মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম ও আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়।” (সহীহ মুসলিম)

২)  নামাজ ইবাদত থেকে গাফেল হওয়া হারাম

  • বিশ্বকাপ দেখার কারণে নামাজ কাজা করা বা জামাত ত্যাগ করা মারাত্মক গুনাহ।
  • অনেক মানুষ খেলার জন্য রাত জাগে, ফজর নামাজ নষ্ট করে।
  • আয়াত: “অতঃপর তাদের পরে এমন লোক এলো যারা সালাত নষ্ট করল এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ করল।” (সূরা মারইয়াম ১৯:৫৯)

৩) অন্ধ সমর্থন জাতিগত উগ্রতা পরিত্যাজ্য

  • দল বা দেশের সমর্থন করতে গিয়ে ঝগড়া-বিবাদ, গালাগালি ও শত্রুতা সৃষ্টি করা ইসলামে নিষিদ্ধ।
  • হাদিস: “যে ব্যক্তি গোত্রীয় পক্ষপাতিত্বের দিকে আহ্বান করে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (আবু দাউদ)

৪) সময়ের অপচয় থেকে বাঁচতে হবে

  • বিশ্বকাপ উপলক্ষে অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করে।
  • একজন মুসলমানের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।
  • হাদিস: “কিয়ামতের দিন বান্দাকে তার জীবন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে তা কোথায় ব্যয় করেছে।” (তিরমিযি)

৫) বেপর্দা অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকা

  • খেলার অনুষ্ঠান, বিজ্ঞাপন বা অন্যান্য উপস্থাপনায় অনেক সময় শরিয়তবিরোধী বিষয় থাকে।
  • মুসলমানকে নিজের চোখ ও অন্তরকে হেফাজত করতে হবে।
  • আয়াত: “মুমিনদের বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে।” (সূরা নূর ২৪:৩০)

৬)জুয়া বাজি সম্পূর্ণ হারাম

  • বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাজি ধরা, বেটিং করা বা অর্থের বিনিময়ে ফলাফল নির্ধারণ করা কবীরা গুনাহ।
  • আয়াত: “হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কাজ।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৯০)

৭) মুসলমানের আসল প্রতিযোগিতা আখিরাতের সফলতা

  • ফুটবল বিশ্বকাপ কয়েক দিনের আনন্দ; কিন্তু আখিরাতের সফলতা চিরস্থায়ী।
  • মুসলমানের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন।
  • আয়াত: “তোমরা তোমাদের রবের ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৩৩)

৮) অমুসলিম তারকাদের অন্ধ অনুসরণ থেকে বিরত থাকা

  • বর্তমানে অনেক যুবক খেলোয়াড়দেরকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে, অথচ তাদের জীবনাচরণ ইসলামী আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
  • একজন মুসলমানের প্রকৃত আদর্শ হলেন Muhammad এবং সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)।
  • আয়াত: “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (সূরা আহযাব ৩৩:২১)

৯) উম্মাহর দুঃখকষ্ট ভুলে যাওয়া উচিত নয়

  • বিশ্বকাপের উন্মাদনায় অনেক সময় মুসলিম উম্মাহর সমস্যা, দ্বীনি দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্যের কথা মানুষ ভুলে যায়।
  • একজন মুমিন কেবল বিনোদনে মগ্ন থাকবে না; বরং উম্মাহর কল্যাণ ও দ্বীনের খেদমতের চিন্তাও করবে।
  • হাদিস: “মুমিনগণ পরস্পরের প্রতি একটি দেহের ন্যায়।” (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)

১০) বিনোদনের চেয়ে আল্লাহর স্মরণ অধিক গুরুত্বপূর্ণ

  • বিশ্বকাপের ম্যাচ, বিশ্লেষণ ও আলোচনা নিয়ে মানুষ যতটা ব্যস্ত থাকে, ততটা কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দ্বীনি জ্ঞান অর্জনে ব্যয় করে না।
  • একজন মুসলমানের হৃদয় আল্লাহর স্মরণে জীবিত থাকে।
  • আয়াত: “জেনে রাখ! আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।” (সূরা রা’দ ১৩:২৮)

উপসংহার

“হে মুসলমানগণ! বিশ্বকাপের ট্রফি একদিন কারো হাতে যাবে, তারপর ইতিহাস হয়ে যাবে। কিন্তু কিয়ামতের দিন জান্নাতের পুরস্কার যার হাতে যাবে, তার সফলতা কখনো শেষ হবে না। তাই আমরা খেলাধুলাকে খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখব, আর আমাদের হৃদয়ের সর্বোচ্চ স্থান আল্লাহ, তাঁর রাসূল ﷺ এবং আখিরাতের জন্য নির্ধারিত রাখব।”

লেখক :

মুফতী মুক্তাদির হোসাইন মারুফ

সম্পাদক, মুফাস্সিরে কুরআন ও খতীব

 

আরো সংবাদ

কমেন্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ