Google search engine
Homeস্বাস্থ্যচুলের সুরক্ষায় ঘরোয়া টিপস, মেনে চলুন সহজ কিছু নিয়ম

চুলের সুরক্ষায় ঘরোয়া টিপস, মেনে চলুন সহজ কিছু নিয়ম


লাইফস্টাইল ডেস্ক : চুল মানুষের সৌন্দর্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে ধুলাবালি, অতিরিক্ত রোদ, নিয়মিত হিট ব্যবহার, ভুলভাবে চুল ধোয়া, অতিরিক্ত টান দিয়ে চুল বাঁধা কিংবা অনুপযুক্ত প্রসাধনী ব্যবহারে চুল দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে। চুলের যত্নে দামি পণ্য ব্যবহারের পাশাপাশি দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি।

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চুল ভালো রাখতে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে।

শ্যাম্পু ব্যবহারে সতর্কতা

চুল পরিষ্কারের সময় পুরো চুলে জোরে জোরে শ্যাম্পু ঘষার প্রয়োজন নেই। মূলত মাথার ত্বকে শ্যাম্পু দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করা ভালো। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে শ্যাম্পু চুলের দৈর্ঘ্য বরাবর স্বাভাবিকভাবেই চলে যায়।

চুল কত ঘন ঘন ধুতে হবে, সেটি মাথার ত্বক কতটা তৈলাক্ত বা ময়লাযুক্ত হয় এবং চুলের ধরন কেমন—তার ওপর নির্ভর করে।

প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার

শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার চুলকে মসৃণ রাখতে এবং জট ও ভাঙা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে চুল শুষ্ক বা কোঁকড়ানো হলে চুলের দৈর্ঘ্যেও কন্ডিশনার ব্যবহার করা উপকারী।

ভেজা চুলে সাবধান

ভেজা অবস্থায় চুল তুলনামূলকভাবে বেশি নাজুক থাকে। তাই গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে জোরে ঘষে চুল শুকানো উচিত নয়। বরং আলতোভাবে পানি শুষে নিতে হবে। চুল আঁচড়ানোর প্রয়োজন হলে প্রশস্ত দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে জট ছাড়ানো ভালো।

অতিরিক্ত হিট থেকে দূরে থাকুন

হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেইটনার, কার্লিং আয়রন বা অন্যান্য গরম যন্ত্রের অতিরিক্ত ব্যবহার চুলের ক্ষতি করতে পারে। সম্ভব হলে চুল স্বাভাবিকভাবে শুকাতে দেওয়া ভালো। হিট ব্যবহার করতেই হলে কম বা মাঝারি তাপমাত্রা বেছে নেওয়া এবং ব্যবহারের পরিমাণ কমানো উচিত।

শক্ত করে চুল বাঁধবেন না

সবসময় শক্ত করে পনিটেইল, খোঁপা, বেণি বা অন্য কোনো স্টাইলে চুল বাঁধলে চুলের গোড়ায় অতিরিক্ত টান পড়তে পারে। দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস থাকলে চুল ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি বিশেষ ধরনের চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

চুল বাঁধার সময় যদি ব্যথা, টান বা মাথার ত্বকে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়, তাহলে সেটিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। চুলের স্টাইলটি ঢিলা করে দেওয়া প্রয়োজন।

বারবার চুল আঁচড়ানো নয়

চুল ভালো রাখার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যকবার চুল আঁচড়াতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। অতিরিক্ত আঁচড়ানো বা টানাটানি করলে চুলের ক্ষতি ও ভাঙন বাড়তে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আলতোভাবে আঁচড়ানোই ভালো।

রাসায়নিক ব্যবহারে সতর্কতা

বারবার চুলে রং করা, কেমিক্যাল স্ট্রেইটেনিং, পার্ম বা রিল্যাক্সিংয়ের মতো প্রক্রিয়া চুলকে দুর্বল করে দিতে পারে। এসব করতে হলে প্রশিক্ষিত পেশাদারের পরামর্শ নেওয়া এবং চুল ও মাথার ত্বকের অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।

চুল পড়লে শুধু ঘরোয়া টোটকার ওপর নির্ভর নয়

স্বাভাবিকভাবেও প্রতিদিন কিছু চুল ঝরে যেতে পারে। তবে হঠাৎ করে অতিরিক্ত চুল পড়া, মাথার কোনো নির্দিষ্ট অংশ পাতলা হয়ে যাওয়া, টাকের জায়গা তৈরি হওয়া বা দীর্ঘদিন সমস্যা চলতে থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। চুল পড়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে—যেমন বংশগত কারণ, অসুস্থতা, মানসিক চাপ, দ্রুত ওজন কমে যাওয়া বা আয়রনের ঘাটতি।

এ ধরনের সমস্যায় চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া চুল গজানোর জন্য বিভিন্ন ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়াও ঠিক নয়; কিছু পুষ্টি উপাদান অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো চুল পড়ার সমস্যা বাড়তে পারে।

শেষ কথা

চুলের সুরক্ষার জন্য সবসময় দামি প্রসাধনী প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে চুল ধোয়া, কন্ডিশনার ব্যবহার, ভেজা চুলে কোমল আচরণ, অতিরিক্ত হিট ও রাসায়নিক এড়িয়ে চলা এবং চুলে অতিরিক্ত টান না দেওয়ার মতো সাধারণ অভ্যাসই চুলের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরো সংবাদ

কমেন্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ