Google search engine
Homeশিক্ষানিয়োগপত্র না পেয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন পাবনার ৩৫ সুপারিশপ্রাপ্ত

নিয়োগপত্র না পেয়ে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন পাবনার ৩৫ সুপারিশপ্রাপ্ত

পাবনা প্রতিনিধি : প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি পাবনার ৩৫ জন প্রার্থী। কেন তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্যও জানানো হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। ফলে কারণ জানতে এবং নিয়োগপত্র পাওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরছেন ভুক্তভোগীরা।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি দেন। তাঁদের দাবি, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব জটিলতা নিরসন করে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫-এর চূড়ান্ত মেধাতালিকায় পাবনা জেলার জন্য ১৫১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে ৩৫ জন এখনো নিয়োগপত্র হাতে পাননি।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পাবনা সদরে একজন, ঈশ্বরদীতে সাতজন, আটঘরিয়ায় তিনজন, চাটমোহরে চারজন, ভাঙ্গুড়ায় দুজন, ফরিদপুরে একজন, সুজানগরে ১০ জন এবং সাঁথিয়ায় পাঁচজন রয়েছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য না পাওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের অনেকের ধারণা, পুলিশ বা এনএসআইয়ের ভেরিফিকেশনসংক্রান্ত কোনো জটিলতার কারণে তাঁদের নিয়োগ আটকে থাকতে পারে।

তবে ভেরিফিকেশনে কী ধরনের সমস্যা পাওয়া গেছে বা কোন কারণে তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি—এ বিষয়ে তাঁদের কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানাননি বলে অভিযোগ প্রার্থীদের।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভেরিফিকেশন নিয়ে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি। এমনকি আশপাশের লোকজনের কাছ থেকেও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও তাঁরা জানেন না। তাঁদের অধিকাংশই কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন বলেও দাবি করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলার সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী তাবাসসুম লামিয়া বিভা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি জানান, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি।

বিভার ভাষ্য, কেন তাঁর নাম নিয়োগপ্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তাঁর বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় কোনো জটিলতা তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও তাঁর জানা নেই।

আরেক প্রার্থী ফরিদুল ইসলাম জানান, শিক্ষকতার প্রতি আগ্রহ থেকেই তিনি অন্য চাকরি ছেড়ে এই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। সব ধাপ পেরিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তিনি বর্তমানে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে তাঁদের নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।

বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে আমিনুল, উজ্জ্বল হোসেন ও গৌরাঙ্গ ঘোষসহ কয়েকজন বলেন, তাঁরা কেন নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, সেটি অন্তত তাঁদের জানানো উচিত। তাঁদের দাবি, একজন নাগরিক হিসেবে কোনো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানার অধিকার তাঁদের রয়েছে।

এদিকে পাবনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটি বর্তমানে শূন্য থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে সরাসরি তথ্য পাওয়াতেও ভোগান্তি হচ্ছে বলে জানান প্রার্থীরা।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশলাফুল কবীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কী সমস্যা রয়েছে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য এখনো সময় রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে যাঁরা যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাঁদের নিয়োগপত্র পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

আরো সংবাদ

কমেন্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ