Google search engine
Homeপাবনাঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমেছে, এখনও পানির নিচে চরাঞ্চলের ফসলি জমি

ঈশ্বরদীতে পদ্মার পানি কমেছে, এখনও পানির নিচে চরাঞ্চলের ফসলি জমি

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি: পাবনার ঈশ্বরদীতে কয়েকদিন ধরে বাড়তে থাকা পদ্মা নদীর পানিতে কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির উচ্চতা আগের দিনের তুলনায় কমেছে। তবে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনও পানির নিচে থাকায় দুশ্চিন্তা কাটেনি স্থানীয়দের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈশ্বরদীর সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের নদীসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। এতে অনেক ফসলের জমি তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও কোথাও নদীভাঙনও দেখা দিয়েছে।

চরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের কৈকুন্ডা গ্রামের বাসিন্দারা জানান, চরাঞ্চলের অনেক জমি পানিতে ডুবে গেছে। এসব জমিতে কলা, গাজর, মুলা, করলাসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করা হয়েছিল। হঠাৎ পানি উঠে যাওয়ায় কৃষকদের এসব ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পানি ঢুকে পড়ায় চরাঞ্চলে গবাদিপশুর খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক নিরাপদ জায়গায় গরু-মহিষ সরিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে ইউনিয়নের কয়েকটি ইটভাটায় পানি প্রবেশ করায় সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাঁধ না থাকায় আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

সাঁড়া ইউনিয়নের সাঁড়া ঘাট, ইসলামপাড়া, কোমরপুর ও মাজদিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি নিচু এলাকায় পদ্মার পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও নদীভাঙনও দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

সাঁড়া ঘাটের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় নদী রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বাঁধ না থাকায় পানি বাড়লে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। এবারও নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ফসলি জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের দোকানেও পানি

পদ্মার পানি বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানপাটেও। পানি উঠে যাওয়ায় ফুচকা, খাবার, ফলমূল ও খেলনার কয়েকটি দোকান সরিয়ে নিতে হয়েছে ব্যবসায়ীদের।

ফুচকা বিক্রেতা মনোয়ারা খাতুন জানান, দোকানের জায়গায় পানি উঠে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মালামাল সরিয়ে নিতে হয়েছে। পানি বাড়ার কারণে দর্শনার্থীর সংখ্যাও আগের তুলনায় কমেছে বলে জানান তিনি।

ব্রিজ দেখতে আসা রফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মার পানি বেড়েছে শুনে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় এসেছেন। এসে দেখেছেন, ব্রিজের নিচের কয়েকটি দোকানে পানি উঠে গেছে এবং ব্যবসায়ীরা মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন।

২৪ ঘণ্টায় পানি কমেছে

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির গেজ রিডিং ছিল ১২ দশমিক ৬১। আগের দিন শুক্রবার একই সময়ে এই মাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৭১। অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় পানির উচ্চতা ১০ সেন্টিমিটার কমেছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে শনিবার সকালে আগের দিনের তুলনায় ১০ সেন্টিমিটার পানি কমেছে।

তবে পানি কমতে শুরু করলেও নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের অনেক জমি এখনও পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফলে কৃষক ও নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ পুরোপুরি কাটেনি।

আরো সংবাদ

কমেন্ট করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বশেষ