নিজস্ব প্রতিবেদন : ( ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) িপাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামের ১০ বছরের শিশু মোছা, কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজের পর তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে পাবনা জেলা পুলিশ।
গত ০৯/০৯/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় পাবনা সদর থানাধীন দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে শিশু কামরুন্নাহার কলি (১০) নিখোঁজ হয়। মামলা রুজুর পরপরই ১৬/০৯/২০২৬ (বুধবার) সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু কামরুন্নাহার কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত মরদেহের বস্তার ভেতর থেকে লাশ ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বাঁধা ইটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ সহ ঘটনার সহিত জড়িত প্রধান দুই আসামি মোস্তফা এবং ইয়াসিন-কে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার দিন আসামি মোস্তফা ও ইয়াসিন ফুফুঁসলিয়ে শিশু কলিকে আসামি মোস্তফা এর মুদি দোকানের পেছনে শয়ন কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। শিশু কলি প্রতিবেশী হওয়ায় আসামিরা তাকে সরাসরি মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। আসামিরা শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে আসামী মোস্তফার দোকানে থাকা হলুদ রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর মরদেহ ঢুকিয়ে লাশটি মোস্তফার ঘরের খাটের নিচে একদিন লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন রাতে উক্ত লাশ ভর্তি হলুদ বস্তাটি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ২ টি ইট সহ আসামী মোস্তফার টিনসেড বাড়ীর পাশে পরিত্যক্ত ডোবায় ঝোপজংগল ও লতাপাতার নিচে ডুবিয়ে রাখে। পরবর্তীতে এলাকাবাসী মানববন্ধন সহ প্রত্যেকের বাড়ী তল্লাশী করার ঘোষনা দিলে গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৪:০০ টার দিকে আসামিরা বস্তাবন্দি মরদেহটি টেনে অন্যত্র সরানোর জন্য পানির নিচ হইতে পাশে থাকা সেফটি ট্যাংকির পাশে নিয়ে আসে। তখন লাশের অতিরিক্ত দূঃগন্ধ ও কুকুরের ডাকে আসামীরা ভয় পেয়ে লাশ ভর্তি বস্তা সেফটি ট্যাংকির পাশে রেখে পালিয়ে যায়। আসামীদের আরো নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের নিমিত্তে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হচ্ছে।
তদন্তকালে গ্রেফতারকৃত আসামি মোস্তফা (৫৫)-এর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় প্রকাশ পায় যে, ঘটনার দিন ০৯/০৯/২০২৬ খ্রিঃ সকাল ০৯:৫২ ঘটিকার দিকে ভিকটিম কামরুন্নাহার কলি তার ছোট ভাইকে সাথে নিয়ে আসামি মোস্তফার মুদি দোকানে জিনিস কিনতে আসে। ঐ সময় আসামি মোস্তফা তার বিকৃত হীন যৌনকামনা চরিত্রার্থ করার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে শিশু কলির একাধিক ছবি ধারণ করে পরে ছবিগুলো ডিলিট করে দেয়। ডিলিটকৃত ছবিগুলো সফলভাবে রিকভার করা হয়। এই ডিজিটাল আলামতটি মামলায় আসামির অপরাধের সুনিদিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি (Motive) ও পূর্বপরিকল্পনার প্রমাণ করে।
ঘটনাটির সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় অদ্য ১৭/০৯/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তদন্তভার পাবনা জেলার গোয়েন্দা শাখার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ডিবি পাবনা দ্রুততম সময়ে বিজ্ঞ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগপত্র দাখিল নিশ্চিত করবে।
গ্রেফতারকৃত আসামীদের নাম-ঠিকানা-
১। মোঃ মোস্তফা কামাল (৫৫), পিতা- মৃত আঃ মতিন প্রাং, মাতা- মোছাঃ হালিমা বেগম, সাং- কুলনিয়া ৮ নং ওয়ার্ড দোগাছী, থানা ও জেলা- পাবনা।
২। মোঃ ইয়াছিন আলী (২১), পিতা- মৃত মোহাব্বত হআলী, মাতা- মৃত নুর নাহার বেগম, স্থায়ী সাং- সুবর্নসারা (ঈদগাহ মাঠের সামনে), থানা- বেলকুচি, জেলা- সিরাজগঞ্জ, বর্তমান সাং- কুলনিয়া ৮ নং ওয়ার্ড দোগাছী, থানা ও জেলা- পাবনা।
সূত্র : জেলা পুলিশ পাবনা


