পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদাহ গ্রামের জামায়াতকর্মী আব্দুল গনি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিতে পাবনায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এ কর্মসূচিতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা আব্দুল গনি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
যেভাবে হামলার শিকার হন আব্দুল গনি
নিহত আব্দুল গনি (৪৫) পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের নলদাহ গ্রামের মৃত খোদা বক্সের ছেলে। স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, তিনি দলের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আব্দুল গনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় একদল ব্যক্তি তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তার মৃত্যু হয়।
হত্যার অভিযোগ ও জামায়াতের বক্তব্য
আব্দুল গনির মৃত্যুর পর ভাঁড়ারা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি রবিউল ইসলাম অভিযোগ করেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল গনির সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি হামলার পেছনে ভাঁড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাঈদ খান এবং তার অনুসারীদের দায়ী করেন।
তবে এ অভিযোগের বিষয়ে আবু সাঈদ খান বা তার অনুসারীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্ত ও বিচার দাবি
আব্দুল গনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম। তিনি জানান, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে আব্দুল গনির ওপর হামলা ও মৃত্যুর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতে ইসলামী। জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন ও সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান এক বিবৃতিতে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জামায়াত নেতাদের বক্তব্য, আব্দুল গনি হত্যার ঘটনায় কোনো ধরনের গাফিলতি না করে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর ভাঁড়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


